রাজাপুরে জরাজীর্ন বসত ঘরে বৃদ্ধ-বৃদ্ধা পরিবারের মানবেতর বসবাস

কামরুল হাসান মুরাদ:: ঝালকাঠি জেলার রাজাপুর উপজেলায় শুক্তাগড় ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের নারিকেলবাড়িয়া গ্রামে জরাজীর্ণ বসতঘরে মানবেতর জীবন-যাপন করছে অসহায় বৃদ্ধ-বৃদ্ধার পরিবার। ভাঙা ঝুপড়ি ঘরে একটু বৃষ্টি হলেই পানির ফোটায় বিছানা ভিজে যায়। ভেজা বিছানায় বৃদ্ধা স্ত্রী সহ পরিবারকে নিয়ে থাকেন বৃদ্ধ আঃ মন্নান হাওলাদার।
জানা গেছে, উপজেলার মৃত এচেনউদ্দি হাওলাদার এর ছেলে আঃ মন্নান হাওলাদার (৭০) তার বৃদ্ধা স্ত্রী সহ পরিবার একটি মোটামুটি ভালো আশ্রয়স্থলের অভাবে বহু বছর ধরে জরাজীর্ণ বসতঘরে মানবেতর জীবন-যাপন করে আসছেন। বৃদ্ধ আঃ মন্নান হাওলাদার একজন অসহায় লোক। বসত ভিটা ছাড়া তার নিজের আর কোন জমি নেই। তার ২ছেলে ও ৩ মেয়ে রয়েছে। বড় ছেলে বিবাহ করে তার সংসার নিয়ে অন্য স্থানে বসবাস করে। বড় দুই মেয়েকে বিবাহ দিয়েছে, স্বামী বাড়িতে থাকে। ছোট এক ছেলে ও ছোট এক মেয়ে নিয়ে জরাজীর্ণ বসতঘরে বসবাস করছেন। ছোট ছেলে বাড়ায় অটো চালায় যে কয় টাকা পায় তা দিয়ে কোন ভাবে চলে সংসার। বর্তমানে বৃদ্ধা আঃ মন্নান হাওলাদারের বসত ঘরখানা খুবই জরাজীর্ণ অবস্থায় আছে। বসত ঘরের আংশিক ভাঙা পুরাতন টিন ও পলিথিন দিয়ে ঢাকা। বর্ষার সময় ঘরের ছাউনি থেকে পানি পড়ে বাশঁ, খুটি, বিছানাসহ সব কিছু ভিজে নষ্ট হয়ে যায়। একটু বন্যা হলেই ঘরটি পরে যাওয়ার আশস্কা রয়েছে।
ঝড় বন্যা হলে অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিতে হয় বৃদ্ধ আঃ মন্নান হাওলাদার ও তার বৃদ্ধা স্ত্রী সহ পরিবারকে। এ অবস্থায় বৃদ্ধ ও বৃদ্ধার পরিবার খুবই মানবেতর ভাবে জরাজীর্ণ বসতঘরে জীবন-যাপন করছেন।
বৃদ্ধ আঃ মন্নান হাওলাদার এর স্ত্রী বৃদ্ধা বকুল বেগম জানান, আমি একজন গরীব অসহায় মহিলা। আমার স্বামী দিনমজুরী কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করত। বর্তমানে শারিরীক অসুস্থ্যতার কারনে কোন কাজকর্ম করতে পারে না। আমার স্বামীর পৈতিক জমির উপর টিন-পলিথিনের ছাপড়া দেওয়া অতি পুরাতন একটি ছোট ঘরে পরিবার পরিজন নিয়ে অতি কষ্টে বসবাস করিতেছি। বর্ষা কালে ঘরে পানি পড়ে বলে সারা রাত ঘরের এক কোনায় জেগে রাত কাটাতে হয় আমাদের। আর এই ভেজা স্যাঁতস্যাঁতে পরিবেশে বেশি করে অসুস্থ করে দিচ্ছে আমাদের। আর্থিক অবস্থা ভাল না হওয়ায় ঠিক মত ঔষুধ কেনা হয় না আমাদের। বর্তমানে ভাঙা ঝুপড়ি নিয়ে বেশ চিন্তিত। কারন রোদ বৃষ্টি কোন মৌসুমেই ঠিক মত থাকতে পারি না। আশ্রয়স্থল যদি ঠিক না থাকে তাহলে দিন রাত পার করা খুব মুসকিল। জীবন-যাপন করার জন্য মোটামুটি ভালো আশ্রয়স্থলের একটি বসতঘর আমাদের খুব প্রয়োজন।