পিরোজপুরে সরকারি নিষেধ অমান্য করে মাদ্রাসায় মিটিং, মানা হয়নি স্বাস্থ্য বিধি

পিরোজপুর প্রতিনিধি:  শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া ১৪ দিনের কঠোর লকডাউনে জরুরি সেবা বাদে অন্য সকল প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও, দ্বিতীয় দিনেই নিয়ম ভেঙে মাদ্রাসায় মিটিং করেছে শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির সদস্যরা। 

যদিও একটি ত্রæটিপূর্ণ নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্নের জন্য ওই মিটিং এর আয়োজন করা হয়েছিল, সংশ্লিষ্টদের দাবি মাদ্রাসার এ্যাসাইনমেন্ট সংক্রান্ত বিষয়ে তারা ওই মিটিং এ অংশ নিয়েছিলেন। 

আজ শনিবার সকালে পিরোজপুরের ইন্দুরকানী উপজেলার পশ্চিম চরনী পত্তাশী রহিম উদ্দিন স্মৃতি দাখিল মাদ্রাসায় এ অনিয়মের ঘটনা ঘটে। এ সময় কোন ধরণের স্বাস্থ্যবিধি না মেনেই ওই মাদ্রাসার কমপক্ষে ১৫ জন শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির কয়েক সদস্য অংশ নেয়। এ সময় তারা কেউই ফেস মাস্ক পরিহিতি ছিল না। সকাল ৯টায় শুরু হয়ে মিটিং চলে দুপুর ১২টা পর্যন্ত। এ সময় মাদ্রসার ত্রæটিপূর্ণ একটি নিয়োগ পরীক্ষা সম্পন্ন ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। 

মিটিং অংশ নেওয়া ম্যানেজিং কমিটির প্রভাবশালী সদস্য মোঃ জিল্লুর রহমান শান্তি জানান, এ্যাসাইনমেন্ট সংক্রান্ত বিষয়ে তিনি মাদ্রসার মিটিং এ অংশ নিয়েছিলেন্য। তবে এক্ষেত্রে তার কি কাজ এ বিষয়ে কোন সদুত্তর দিতে পারেননি। 

অন্যদিকে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির ঘনিষ্টজন হিসেবে পরিচিত এবং ওই মাদ্রাসার কৃষি শিক্ষক মোঃ নাজমুল হাসান দাবি করেন সে মাত্র ২০ মিনিট সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তারও দাবি এ্যাসাইনমেন্ট সংক্রান্ত বিষয়ে সেখানে সে উপস্থিত হয়েছিলেন। যদিও সেখানে কোন শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি দেখা যায়নি। 

এ বিষয়ে মাদ্রাসার সুপার মোঃ আমিনুল ইসলাম জানান, মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির নির্দেশক্রমে তারা এ মিটিং করেছেন। 

তবে মাদ্রাসা ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি এম এ কালাম জানান, এ্যাসাইনমেন্টের কাজের জন্য নির্ধারিত শিক্ষকদের মাদ্রাসায় হাজির হওয়ার কথা ছিল। তবে অন্যান্য শিক্ষক কিংবা ম্যানেজিং কমিটির সদস্যরা উপস্থিত থাকার বিষয়টি তার জানা নাই এবং বর্তমানে সে ঢাকায় অবস্থান করছে। 

এ বিষয়ে ইন্দুরকানী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মীর এ কে এম আবুল খায়ের জানান, আসন্ন দাখিল পরীক্ষার্থীদের এ্যাসাইনমেন্ট দেওয়ার জন্য ওই মাদ্রাসার শিক্ষকরা এসেছিলেন বলে তাকে জানিয়েছিনে। তবে দাখিল পরীক্ষার্থীদের সাথে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরাই শুধু উপস্থিত থাকবেন। এছাড়া এক্ষেত্রে ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের কোন প্রয়োজন নাই। 

এ বিষয়ে পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক আবু আলী মোঃ সাজ্জাদ হোসেন জানান, লকডাউনের সময় স্বশরীরে কোন ধরণের মিটিং করার সুযোগ। তিনি খোঁজ নিয়ে বিষয়টি দেখছেন বলেও জানান।